শামীম আহমেদ ॥ বরিশালের বাবুগঞ্জে ৩১টি ইভাটার মধ্যে শুধু রহমতপুর ইউনিয়নের দ্বারিকা গ্রামে ১৪টি ইটভাটা রয়েছে। প্রক্রিয়াধীন রয়েছে আরো ২টি। এতে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে কৃষি,প্রকৃতি ও ফসলি জমি।
ওই ১৪টি ইটভাটা ছাড়াও বাবুগঞ্জ উপজেলায় আরো ১৮টিসহ মোট ৩২টি ইটভাটা রয়েছে বিভিন্ন এলাকায়। এই ইটভাটাগুলো টফসয়েল সাবার করে চলছে।
প্রশাসন ও প্রভাবশালী মহলের অনৈতিক সস্পর্কের সূত্র ধরেই এ সব ইটভাটা পরিচালিত হচ্ছে। ইটভাটাগুলো পাকা রাস্তার পাশে বসতি এলাকায় গড়ে উঠছে। মালিকরা প্রতিযোগিতা মূলক কৃষি জমির টপসয়েল ইটভাটায় নিচ্ছে। আর এই কৃষি জমির মাটি সংগ্রাহের জন্য দালাল নিয়োগ করেছে।
দালালরাই সহজ-সরল কৃষকদের কৌশলে ফাঁদে ফেলে টপসয়েল গ্রাস করে চলছে। এতে আবাদী জমি এখন শেষের দিকে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ওই এলাকায় কৃষি উপযোগী জমি থাকবে না বলে মন্তব্য করছেন উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরসহ সচেতন মহল। ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ। ইতিমধ্যেই এর প্রভাব পড়েছে কৃষি ফসল,সবজি,গাছের ফলমূলেও।
এমনকি গবাদি পশুসহ মানুষের উপরও। অনেক গাছের ফলন কমেছে। বিশেষ করে নারিকেল-সুপারি-কলায়ও অজানা রোগ পরিলক্ষিত হচ্ছে। এসব ইটভাটার আওতায় দ্বারিকা গ্রামের ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক মোঃ কবির হোসেন,সাবেক ইউপি মেন্বর জাহিদুল ইসলাম নয়ন,সেলিনাসহ আরো অনেকে জানান,আমার বাড়ি থেকে ১৪টি ইটভাটা খুব কাছাকাছি এবং আরো ২টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
বাড়ি ও ক্ষেতের জায়গা পড়ছে মাঝখানে। আগের চেয়ে ধান উৎপাদন কমে গেছে। অনেক নারিকেল গাছেই ফল ধরছে না। ইট ভাটার কালো ধোঁয়ায় আমরা চরম ক্ষতির মুখে পড়েছি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুজিত হাওলাদার বলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র বিহীন এবং আইন না যেনে ফসলি জমি ও বসতি এলাকায় ইটভাটা স্থাপন করা অপরাধ। বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নে ফসলি ও বসতি এলাকায় ইটভাটা স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয়নি। কিভাবে ফসলি ও বসতি এলাকায় ইটভাটা নির্মানে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে ছাড় পত্র নিয়েছে তা খতিয়ে দেখার কথা বলেছেন তিনি।
Desing & Developed BY EngineerBD.Net
Leave a Reply