, ,

শিরোনাম :
বরিশালের মাধবপাশায় অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কনস্টেবলের মৃত্যুতে রহস্য!

বরিশালের মাধবপাশায় অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কনস্টেবলের মৃত্যুতে রহস্য!

dynamic-sidebar

নিজস্ব প্রতিবেদক: বরিশালের মাধবপাশা ইউনিয়নে অবসরপ্রাপ্ত এক পুলিশ কনস্টেবলের মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে সুন্দর আলী হাওলাদারের নামে ওই পুলিশ সদস্য মারা যাওয়ার পরে সন্তানেরা স্বাভাবিক মৃত্যু দাবি করলেও স্থানীয় একটি সূত্র বলছে তিনি খুন হয়েছেন। এবং তড়িঘড়ি করে জানাজা ও দাফন দেওয়া নিয়ে এলাকায় নানান কথা শোনা যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বরিশাল মেট্রোপলিটন বিমানবন্দর থানা পুলিশ বাবুগঞ্জের ফুলতলা গ্রামের সুন্দর আলীর মৃত্যু সম্পর্কে অবগত থাকলেও নেপথ্য কারণ কী তা জানতে পারেননি। থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদ বিন আলম রাত ১০টার দিকে বরিশালটাইমসের এ প্রতিবেদককে জানান, সুন্দর আলীর মৃত্যুর বিষয়টি তার সন্তান ইব্রাহিম ফোন করে জানিয়েছেন। কিন্তু কারণে বা কেন মৃত্যু হয়েছে সে সম্পর্কে বিস্তার কিছু বলেননি। পরে অবশ্য বিষয়টি নিয়ে নানা কথা শোনা গেলে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় একটি সূত্র জানায়- বাবুগঞ্জের মাধবপাশা ইউনিয়নের ফুলতলা হাওলাদার বাড়ির বাসিন্দা সুন্দর আলী হাওলাদার দুই বিয়ে করেন। সম্পত্তি নিয়ে উভয় ঘরের সন্তানদের সাথে বিরোধ চরম পর্যায়ে রয়েছে। এনিয়ে প্রায়শই ওই বাড়িতে গন্ডগোলের কথা শোনা যায়।

একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়- সেই বিরোধকে কেন্দ্র করে গত বুধবার ভোরে সুন্দর আলীকে মারধর করেন ছেলে অবসরপ্রাপ্ত কনস্টেবল ইব্রাহিম হাওলাদার। এতে তিনি অসুস্থ্য হয়ে পড়লে বাসায় রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল। এবং এ সংক্রান্ত কারও কাছে কিছু যেন বলতে না পারে এই কারণে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনটিও ভেঙে ফেলে। পুরো ঘটনাটি লুকোচাপা রাখতে বাবাকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে রাখা হয়েছিল। সর্বশেষ স্থানীয় এক চিকিৎসককে বাসায় ডেকে এনে কোমড়ে ব্যান্ডিজ করানো হয়। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মাথায় বিকেলে বৃদ্ধ সুন্দর আলীর মৃত্যু ঘটে।

সূত্রটি আরও জানায়- ছেলে ইব্রাহিম প্রথমে মৃত্যুর কারণ হিসেবে কোমড়ের আঘাত উল্লেখ করলেও পরবর্তীতে বলছেন স্টোক করে মারা গেছেন। ছেলের এই দ্বিমুখী তথ্য নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে সন্দেহ দানা বেঁধেছে। এবং তড়িঘড়ি করে জানাজা ও দাফনের ব্যবস্থা করায় সেই সন্দেহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

অবশ্য ছেলে ইব্রাহিম বাবাকে মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করলেও স্থানীয় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান জয়নাল হাওলাদার বলছেন- বিষয়টি তিনিও শুনেছেন। এবং পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। কিন্তু ছেলেরা স্বাভাবিক মৃত্যু দাবি করায় সেখান থেকে ফিরে এসেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অপর একটি সূত্র জানায়- চেয়ারম্যান চলে যাওয়ার পরেই দ্রুত বৃদ্ধকে জানাজা দিয়ে দাফন করতে চেয়েছিলেন ছেলে ইব্রাহিম। কিন্তু এরপরেই রটে যায় ছেলের মারধরে বাবার মৃত্যুর খবরটি। এক কান দু কান হতে হতে এই খবর পৌঁছে যায় বিমানবন্দর থানা পুলিশের কাছে। পরে জানাজানি হলে আগ মূহূর্তে থানা পুলিশের ওসি ফোন করে লাশ দাফন বিলম্বে দেওয়ার নির্দেশ দেন।

রাত ১১টার দিকে এ রিপোর্ট লেখার প্রাক্কালে মুঠোফোনে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে ছেলে ইব্রাহিম জানান, থানা পুলিশের নির্দেশে লাশ দাফন করতে সময় নেওয়া হয়েছে। এবং তার সামনে পুলিশের লোক রয়েছেন। তবে তিনি বাবাকে মারধরের বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করে স্বাভাবিক মৃত্যু বলেই দাবি করেছেন। এবং জানাজা ও দাফনে তড়িঘড়ির বিষয়ে জানতে চাইলে করোনা পরিস্থিতির বলে দাবি করেন।

এই বিষয়ে ওসি জাহিদ বিন আলম বলেন- উপ-পরিদর্শক (এসআই) মর্যাদার এক কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে খোঁজ-খবর নিয়ে দেখছেন। এতে যদি অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায় তাহলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আমাদের ফেসবুক পাতা

© All Rights reserved © 2018 KhoborBarisal.com

Desing & Developed BY EngineerBD.Net