নিজস্ব প্রতিবেদকঃ প্রেমের ফাঁদে ফেলে বরিশালের উজিরপুরের অভিজিৎ দাস (২০) নামের এক হিন্দু যুুবককে জোর করে সুন্নতে খতনা করার অভিযাগ উঠেছে প্রেমিকার পরিবারের বিরুদ্ধে। ওই যুবক উপজেলার হারতা ইউনিয়নের কুচিয়ার পাড় উচ্চ গ্রামের নির্মল দাসের ছেলে।
সম্প্রতি মুসলিম পরিবারের মেয়ের সাথে প্রেম করে তাকে বিয়ের জন্য ঢাকায় প্রস্তাব নিয়ে গেলে জোর করে সুন্নতে খতনা করানোর এই ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে। এমনকি এই ঘটনায় শনিবার উজিরপুর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগও দেয়া হয়েছে।
তবে, অভিযোগ ভিত্তিহিন বলে পুলিশের কাছে পাল্টা অভিযোগ করেছেন মুসলিম প্রেমিকা’র পরিবার। তাদের মেয়েকে বিয়ে করতে না পেরে পরিবারের সদস্যদের ফাঁদে ফেলতেই অভিজিৎ ও তার পরিবার এমন নাটক সাজিয়েছে বলে অভিযোগ তাদের। এ কারণে তারাও পাল্টা অভিযোগ দেয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানান উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিয়াউল আহসান।
পুলিশের কাছে দেয়া অভিযোগে অভিজিত বলেছেন, ‘চাকরি দেয়ার কথা বলে চলতি বছরের গত ২ অক্টোবর উজিরপুরের কুচিয়ার পাড় উচ্চ গ্রামের প্রতিবেশী কালাম হাওলাদার তাকে ঢাকার জিনজিরা নিয়ে যায়। পরে চাকরি পায়িয়ে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাকে জোরপূর্বক ধর্মান্তরীত হতে চাপ সৃষ্টি করে।
এতে রাজি না হওয়ায় কালাম লোকজন নিয়ে গত ১৬ অক্টোবর ওই যুবককে হাত-পা বেধে জোর করে সুন্নতে খতনা করায় বলের অভিযোগ তার। পরে তাকে ঘরের মধ্যে আটকে রেখে চিকিৎসা করায়। এরপর সুযোগ পেয়ে গত ২২ অক্টোবর ঢাকা থেকে পালিয়ে বরিশালে আসেন তিনি।
অভিজিৎ দাবি করেছেন, ‘বাড়িতে আসলেও লোক লজ্জার ভয়ে ঘটনাটি কাউকে জানাইনি। কিন্তু গত ৬ অক্টোবর আমার চাচি আমাকে সুপারি পাড়তে গাছে উঠতে বলে। আমি রাজি না হলে সে অনেক জোড়াজুড়ি করে। এক পর্যায় আমি তাকে ঘটনাটি খুলে বলি’।
তিনি বলেন, ‘আমার পরিবার ঘটনাটি জানার পরে সাত নভেম্বর সকালে উপজেলার হারতা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ডা. হরেন রায় ও ইউপি আওয়ামী লীগের সভাপতি সুনীল কুমার বিশ্বাসের কাছে অভিযোগ দেন। পরে তাদের পরামর্শ অনুযায়ী যুবকের পরিবার উজিরপুর মডেল থানায় ঘটনার বিচার চেয়ে লিখিত অভিযোগ দেন।
এ প্রসঙ্গে উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিয়াউল আহসান বলেন, ‘আমরা অভিযোগ পেয়েছি। তবে ওই ছেলেকে এখনো পাওয়া যায়নি। তার পরিবারের লোকজন এসে অভিযোগ দিয়েছে গেছে।
তিনি বলেন, ‘ঘটনাটি ঢাকার একটি বসতিতে ঘটেছে। তবে যেভাবে অভিযোগ করা হয়েছে, ঘটনাটি তেমন নয়। মূলত এটি একটি প্রেম সংক্রান্ত ঘটনা। অভিযুক্তদের সাথে আলোচনা করে প্রাথমিকভাবে এমনটি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ওসি বলেন, ‘একই গ্রামের কামাল হাওলাদারের মেয়ের সাথে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওই ছেলের সাথে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। অভিজিৎ ওই মেয়েকে বিয়ে করতে চেয়েছে। তাই তাকে বিয়ের জন্য ধর্মান্তরীত হওয়ার শর্ত দেয়া হয়েছে। তবে অভিজিৎকে জোর করে সুন্নতে খতনা করা হয়নি বলে মেয়ের মা আমাদের জানিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘মেয়ের বাবা রিকশা চালক এবং ছেলের বাবা ভ্যানগাড়ি চালক। তার ওপর ছেলে এবং মেয়ে ভিন্ন ধর্মের। তাই দুই পরিবার তাদের সম্পর্ক মেনে নিচ্ছে না। এ নিয়েই মূলত তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব রয়েছে। সেই দ্বন্দ্বের জের ধরেই মেয়ের পরিবারকে ফাঁসাতে ছেলেকে জোর করে সুন্নতে খতনার নাটক সাজিয়েছে বলে মেয়ের মা অভিযোগ করেছে।
তাদের অভিযোগ ফাঁদে ফেলে মেয়েকে বিয়ে করার জন্যই তারা এমন কর্মকান্ড চালাচ্ছে। তাই মেয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে পাল্টা অভিযোগ করবে বলেও আমাদের জানিয়েছে।
তবে ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে জানিয়ে ওসি বলেন, ‘ঘটনাটি যেহেতু ঢাকায় ঘটেছে তাই বিষয়টি খোঁজ খবর এবং তদন্ত করতে সময়ের প্রয়োজন। অভিযোগের তদন্ত পরবর্তী এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহন করকা হবে বলে জানান ওসি।
Desing & Developed BY EngineerBD.Net
Leave a Reply