মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৮:০৬

শিরোনাম :

আগামীকাল বাৎসরিক মনসা পূজা

dynamic-sidebar

শামীম আহম্মেদ ॥ মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যর অমর কবি ও অমর কাব্য মনসা মঙ্গলের রচয়িতা বিজয় গুপ্তের প্রতিষ্ঠিত মনসাকুন্ড নামে খ্যাত জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা গ্রামের ৫২৫ বছরের পুরোনো মনসা মন্দিরের বাৎসরিক পূজা আগামীকাল রবিবার।

পূজার আগে মন্দির আঙ্গিনায় চারদিনব্যাপী রয়ানি গান অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিবছরের ন্যায় এবারও মনসা মন্দিরের বাৎসরিক পূজা উপলক্ষে পূজা অর্চনা, বলিদান ও প্রসাদ বিতরণ করা হবে। মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দরা জানান, “ধর্ম যার যার, উৎসব সবার” বাক্যকে ধারন করে জাতি ধর্ম বর্ন নির্বিশেষে বাৎসরিক পূজায় অন্যান্য বছরের ন্যায় এবারও দেশ-বিদেশের লাখো ভক্তবৃন্দদের সমাগম ঘটবে।

প্রতিবছরের ন্যায় এবছরও পূজা উপলক্ষে মানত দিতে ইতোমধ্যে দেশ-বিদেশের হাজার-হাজার ভক্তবৃন্দ পূজার্ঘ্য নিয়ে আসতে শুরু করেছেন। নিরাপত্তা ও শৃংখলার জন্য মন্দির ও পূজা কমিটির নিজস্ব কর্মীর পাশাপাশি থানা পুলিশও ব্যাপক ভুমিকা পালন করছেন।

ঐতিহাসিক মতে, মধ্যযুগের প্রখ্যাত কবি বিজয় গুপ্ত “বিষহরি” (বিষ হরণকারী) মনসা দেবীর স্বপ্নে আদিষ্ট হয়ে নিজ বাড়ির দীঘিতে স্বপ্নে পাওয়া পূঁজার ঘট পেয়ে গৈলা গ্রামের নিজ বাড়িতে বিজয় গুপ্ত ৫২৫ বছর পূর্বে মনসা মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন এবং পাশ্ববর্তী বকুল গাছের নিচে বসে স্বপ্নে আদিষ্ট হয়েই তিনি মনসা মঙ্গল রচনা করেছিলেন।

দেবী তাকে স্বপ্নে আদিষ্ট হয়ে বলেছিলেন-তুই নাম চাস না কাজ চাস? উত্তরে বিজয় গুপ্ত বলেছিলেন-আমি নাম চাই।

সেই থেকে অদ্যাবধি ওই মন্দিরে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দিপনার মধ্যদিয়ে প্রতিবছর শ্রাবনের সংক্রান্তি তিথীতে বাৎসরিক পূজা উদ্যাপিত হয়ে আসছে।

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক সুলতান হোসেন শাহর রাজত্বকালে ইংরেজী ১৪৯৪ সালে বিজয় গুপ্ত মনসা মঙ্গল রচনা করে সুলতানের দরবারে “মহাকবি”র খেতাবে অধিষ্টিত হন।

কারণ বিজয় গুপ্তই সর্বপ্রথম ইংরেজী তারিখ ও সাল তার কাব্যে লিপিবদ্ধ করেছিলেন। মহাকবির খেতাব পাওয়ার পর ভারতবর্ষে মনসা দেবীর মহাধুমধামে পূজার প্রচলন ঘটে। মহাকবি বিজয় গুপ্তের পিতার নাম সনাতন গুপ্ত ও মাতার নাম রুক্সিনী দেবী।

আমাদের ফেসবুক পাতা

© All Rights reserved © 2018 KhoborBarisal.com

Desing & Developed BY EngineerBD.Net